ঢাকা টু ফরিদপুর ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
ঢাকা থেকে ফরিদপুরে বর্তমানে ৩টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে: সুন্দরবন এক্সপ্রেস, মধুমতি এক্সপ্রেস ও বেনাপোল এক্সপ্রেস। এই তিনটি ট্রেনের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে আপনি আরামদায়কভাবে ফরিদপুর পৌঁছাতে পারবেন। তাহলে ঢাকা টু ফরিদপুর ট্রেনের সময়সূচী বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা যাক।
নিয়মিত যাতায়াতকারী অনেক যাত্রীই ট্রেন ছাড়ার সঠিক সময় জানতে চান যাতে স্টেশনে গিয়ে বাড়তি সময় নষ্ট না হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী প্রতিটি ট্রেনের ছাড়ার ও পৌঁছানোর সময় নিচে উল্লেখ করা হলোঃ
Table of Contents
ঢাকা থেকে ফরিদপুরগামী ট্রেনের সময়সূচী
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | ছাড়ার সময় (ঢাকা) | পৌঁছানোর সময় (ফরিদপুর) |
|---|---|---|---|
| সুন্দরবন এক্সপ্রেস | ৭২৬ | সকাল ০৮:০০ মিনিট | সকাল ০৯:৩৯ মিনিট |
| মধুমতি এক্সপ্রেস | ৭৫৫ | বিকাল ০৩:০০ মিনিট | বিকাল ০৫:০৩ মিনিট |
| বেনাপোল এক্সপ্রেস | ৭৯৬ | রাত ১১:৩০ মিনিট | রাত ০১:১৩ মিনিট |
ট্রেন ধরার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে টিকিট নিশ্চিত করা এবং সহজে নিজের আসনটি খুঁজে নেওয়া দুটোই সহজ হয়।
ফরিদপুর থেকে ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
ফরিদপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পথেও এই তিনটি ট্রেনই যাত্রীদের সঙ্গী। নিচের টেবিলে ফরিদপুর থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের সময়সূচী দেখানো হলোঃ
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | ছাড়ার সময় (ফরিদপুর) | পৌঁছানোর সময় (ঢাকা) |
|---|---|---|---|
| সুন্দরবন এক্সপ্রেস | ৭২৫ | রাত ০৩:১৫ মিনিট | ভোর ০৫:১০ মিনিট |
| মধুমতি এক্সপ্রেস | ৭৫৬ | সকাল ১১:৪৯ মিনিট | দুপুর ০২:০০ মিনিট |
| বেনাপোল এক্সপ্রেস | ৭৯৫ | সন্ধ্যা ০৬:২৫ মিনিট | রাত ০৮:৩০ মিনিট |
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ভোরবেলা ঢাকা পৌঁছানোর কারণে অফিস বা জরুরি কাজে যাওয়ার জন্য অনেকের কাছেই এটি একটি পছন্দের ট্রেন। অন্যদিকে মধুমতি এক্সপ্রেস দুপুরে ঢাকা পৌঁছায় যা দিনের বেলা ভ্রমণে অভ্যস্ত যাত্রীদের জন্য বেশ সুবিধাজনক।
জেনে রাখুনঃ মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
মূল কথা: ঢাকা-ফরিদপুর রুটে সুন্দরবন এক্সপ্রেস, মধুমতি এক্সপ্রেস ও বেনাপোল এক্সপ্রেস এই তিনটি ট্রেন চলাচল করে এবং যাত্রীর সুবিধা অনুযায়ী দিনের যেকোনো সময়ে যাত্রা বেছে নেওয়া যায়।
ঢাকা টু ফরিদপুর ট্রেনের ভাড়া ২০২৬ কত?
ঢাকা টু ফরিদপুর ট্রেনের ভাড়া আসন বিভাগ অনুযায়ী ৩০৫ টাকা থেকে ৬৯৬ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। ভ্রমণের দূরত্ব ও আসনের মান বিবেচনা করে বাংলাদেশ রেলওয়ে এই ভাড়া নির্ধারণ করেছে ফলে যাত্রীরা নিজেদের বাজেট অনুযায়ী আসন বেছে নিতে পারেন। নিচের আসন বিভাগ অনুযায়ী ঢাকা টু ফরিদপুর ট্রেনের ভাড়া দেওয়া হলোঃ
| আসন বিভাগ (Seat Category) | ভাড়া (টাকায়) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার (Shuvon Chair) | ৩০৫ |
| প্রথম আসন (First Seat) | ৪৬৬ |
| স্নিগ্ধা (Snigdha) | ৫৮১ |
| এসি (AC) | ৬৯৬ |
টিকেট সংগ্রহ করার সময় এই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি কোনো টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কাউন্টারে বা অনলাইন বুকিং সিস্টেমে সবসময় এই মূল্যই প্রদর্শিত হবে। কেউ অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে সে বিষয়ে সতর্ক থাকা ভালো।
যারা লম্বা সময় ভ্রমণে অভ্যস্ত নন বা প্রথমবার এই রুটে যাচ্ছেন, তাদের জন্য স্নিগ্ধা আসন একটি ভালো মধ্যম বিকল্প আরামও মিলবে, আবার এসির তুলনায় খরচও কিছুটা কম পড়বে।
মূল কথা: ঢাকা টু ফরিদপুর ট্রেনের ভাড়া শোভন চেয়ারে সর্বনিম্ন ৩০৫ টাকা থেকে শুরু হয়ে এসি আসনে সর্বোচ্চ ৬৯৬ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
ঢাকা টু ফরিদপুর ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম
ঢাকা টু ফরিদপুর ট্রেনের টিকিট কাটতে হলে আপনি স্টেশন কাউন্টার অথবা অনলাইন ই-টিকেটিং সিস্টেম এই দুই মাধ্যমের যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন। নিচে উভয় পদ্ধতি ধাপে ধাপে দেওয়া হলো।
ধাপ ১: সরাসরি রেলস্টেশন থেকে টিকিট সংগ্রহ
যারা অনলাইনে টিকিট কাটতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তাদের জন্য স্টেশন কাউন্টার এখনও একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।
- ঢাকা বা ফরিদপুরের যেকোনো একটি রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত হন।
- আপনার পছন্দের ট্রেন ও আসন বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট কাউন্টারে লাইনে দাঁড়ান।
- কাউন্টার মাস্টারকে গন্তব্য, ট্রেনের নাম, যাত্রার তারিখ ও আসন বিভাগ জানান।
- নির্ধারিত ভাড়া প্রদান করে টিকিটটি সংগ্রহ করুন।
ধাপ ২: অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ (সহজ ও দ্রুত পদ্ধতি)
বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সময়সাশ্রয়ী পদ্ধতি হলো অনলাইনে টিকিট কাটা। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকেটিং ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই এটি সম্পন্ন করা যায়।
- বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকেটিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
- মোবাইল নম্বর ও ইমেইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন, আগে থেকে থাকলে লগইন করুন।
- ‘ঢাকা’ থেকে ‘ফরিদপুর’ (বা উল্টো) যাত্রার তারিখ ও ট্রেনের নাম নির্বাচন করুন।
- পছন্দের আসন বিভাগে উপলব্ধ আসন থেকে নিজের আসনটি বেছে নিন।
- বিকাশ, নগদ, রকেট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
- পেমেন্ট সফল হলে ই-টিকিট ডাউনলোড করুন বা এসএমএসে পেয়ে যান এবং যাত্রার সময় এর কপি সাথে রাখুন।
অনলাইনে টিকিট কাটলে আসন আগে থেকে নিশ্চিত করে রাখা যায়, যা বিশেষ করে ছুটির মৌসুমে বা উৎসবের সময় বেশ কাজে দেয়। কোনো সমস্যা হলে রেলওয়ের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ঢাকা টু ফরিদপুর ট্রেনের টিকিট স্টেশন কাউন্টার বা অনলাইন ই-টিকেটিং দুই মাধ্যমেই কাটা যায় তবে আসন নিশ্চিত করতে অনলাইন বুকিং তুলনামূলক বেশি সুবিধাজনক।
ঢাকা টু ফরিদপুর কত কিলোমিটার?
ঢাকা থেকে ফরিদপুরের রেলপথের দূরত্ব প্রায় ২২০ কিলোমিটার। রেলপথটি মাওয়া ও পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের দিকে বিস্তৃত হয়েছে, যার ফলে যাত্রাটি তুলনামূলকভাবে ঝামেলাহীন ও দ্রুত হয়ে থাকে। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ চালু হওয়ার পর থেকে এই দূরত্ব আগের তুলনায় অনেক কম সময়ে পার হওয়া সম্ভব হয়েছে। আগে যেখানে ফেরি বা সড়কপথে অনেকটা সময় লেগে যেত, এখন সরাসরি ট্রেনে এই দূরত্ব পাড়ি দেওয়া যাচ্ছে নির্ঝঞ্ঝাটভাবে। দূরত্ব সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে যাত্রার পরিকল্পনা করা এবং সময় হিসাব করাও অনেক সহজ হয়ে যায়।
ঢাকা টু ফরিদপুর ট্রেনে যেতে কত সময় লাগে?
ঢাকা টু ফরিদপুর ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী, যাত্রায় সময় লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা ৩ মিনিট। কোন ট্রেনে যাচ্ছেন তার উপর ভিত্তি করে এই সময়ের সামান্য তারতম্য হতে পারে। উপরের সময়সূচী থেকেই দেখা যাচ্ছে, সুন্দরবন এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে ফরিদপুর পৌঁছাতে সময় নেয় মাত্র ১ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট যা এই রুটের সবচেয়ে দ্রুতগামী সার্ভিসগুলোর একটি। অন্যদিকে মধুমতি এক্সপ্রেসের যাত্রা সময় ২ ঘণ্টা ৩ মিনিট। তাই যারা দ্রুত পৌঁছাতে চান তাদের জন্য সকালের সুন্দরবন এক্সপ্রেসটি বেশ উপযুক্ত একটি পছন্দ হতে পারে।
সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা ও উত্তর (FAQ)
ঢাকা থেকে ফরিদপুরগামী ট্রেনগুলো কখন ছাড়ে?
ঢাকা থেকে ফরিদপুরগামী ট্রেনগুলো সকাল ৮:০০টা (সুন্দরবন এক্সপ্রেস), বিকাল ৩:০০টা (মধুমতি এক্সপ্রেস) এবং রাত ১১:৩০টায় (বেনাপোল এক্সপ্রেস) ছেড়ে যায়।
ফরিদপুর থেকে ঢাকায় ফেরার সবচেয়ে সুবিধাজনক ট্রেন কোনটি?
সকালে ঢাকায় পৌঁছাতে চাইলে সুন্দরবন এক্সপ্রেস (রাত ৩:১৫ মিনিটে ছাড়ে) সবচেয়ে ভালো বিকল্প। আর দুপুরে পৌঁছাতে চাইলে মধুমতি এক্সপ্রেস (সকাল ১১:৪৯ মিনিটে ছাড়ে) বেছে নেওয়া যায়।
ঢাকা টু ফরিদপুর ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কাটা কি বাধ্যতামূলক?
না, টিকিট অনলাইনে কাটা বাধ্যতামূলক নয়। সরাসরি রেলস্টেশন থেকেও টিকিট কাটা যায়। তবে অনলাইনে আগে থেকে টিকিট কাটলে আসন নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
স্নিগ্ধা ও শোভন চেয়ারের মধ্যে পার্থক্য কী?
স্নিগ্ধা আসন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত না হলেও এখানে আরামদায়ক কুশনযুক্ত আসন ও উন্নত সেবা মেলে। শোভন চেয়ার হলো সাধারণ মানের আসন, যা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী।
ট্রেনে কতদিন আগে থেকে টিকিট কাটা যায়?
বাংলাদেশ রেলওয়েতে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সাধারণত যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে বিক্রি শুরু হয়। তাই যাত্রার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই টিকিট কেটে রাখা ভালো।
শেষকথা
ঢাকা টু ফরিদপুর ট্রেনের সময়সূচী ভাড়া এবং টিকিট সংক্রান্ত এই বিস্তারিত আলোচনা থেকে যাত্রাকে আরও সুগম করার মতো প্রয়োজনীয় সব তথ্য পাওয়া গেছে বলে আশা করি। সঠিক সময়সূচী ও ভাড়ার তথ্য হাতে থাকলে সময়মতো ট্রেন ধরা যায় এবং ভাড়া নিয়ে কোনো জটিলতায় পড়তে হয় না।
আজকের এই পোস্টটি কাজে লেগে থাকলে বন্ধু ও পরিচিতজনের সাথে শেয়ার করতে পারেন। ঢাকা-ফরিদপুর ট্রেন যাত্রা নিয়ে কোনো অভিজ্ঞতা বা অতিরিক্ত প্রশ্ন থাকলে নিচের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। এরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের সময়সূচী ও ভ্রমণ নির্দেশিকা পেতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।
Is an Entrepreneur, Business Adviser. He loves to do research on the business and acquire knowledge on the business topic and this knowledge he used in his business. He also believes that sharing is caring that’s why he starts to write for those people who actually need help with the business, jobs, management, soft skills, and self-employed topic which is very important for them.
