এয়ারপোর্ট টু কমলাপুর ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ে’র সময়সূচী অনুযায়ী এয়ারপোর্ট (বিমানবন্দর) থেকে কমলাপুর রুটে প্রতিদিন ২০টিরও বেশি আন্তঃনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেন চলাচল করে। প্রথম ট্রেনটি ছাড়ে ভোর ০৪:২৩ মিনিটে, আর শেষ ট্রেনটি রাত ১১টার কাছাকাছি সময়ে। মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরত্বের এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আর সাধারণ সিটের ভাড়া পড়ে ৪৫ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে।
যারা এয়ারপোর্ট টু কমলাপুর ট্রেনের সময়সূচী খুঁজছেন, তাদের জন্য এই আর্টিকেলে প্রতিটি প্রধান ট্রেনের ছাড়ার ও পৌঁছানোর সময়, সাপ্তাহিক বন্ধের দিন এবং ভাড়ার বিস্তারিত তথ্য একসাথে দেওয়া হলো, যাতে যাত্রা পরিকল্পনা করা সহজ হয়।
Table of Contents
এয়ারপোর্ট টু কমলাপুর আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচী কী?
এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুরগামী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর মধ্যে সুবর্ণা এক্সপ্রেস ও তূর্ণা এক্সপ্রেস সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, কারণ এগুলো সকালের দিকে চলাচল করে এবং অফিসগামী যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক।
| ট্রেনের নাম | বিমানবন্দর থেকে ছাড়ার সময় | কমলাপুর পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক বন্ধ |
|---|---|---|---|
| সুবর্ণা এক্সপ্রেস | সকাল ০৭:২৩ | সকাল ০৮:০০ | সোমবার |
| তূর্ণা এক্সপ্রেস | সকাল ০৭:৩৯ | সকাল ০৮:১৫ | নেই |
| উপবন এক্সপ্রেস | সকাল ০৮:৩০ | সকাল ০৯:০৫ | বুধবার |
| ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস | সকাল ০৯:০৮ | সকাল ১০:০০ | নেই |
| মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস | সকাল ১০:২৯ | সকাল ১১:১০ | বৃহস্পতিবার |
| তিস্তা এক্সপ্রেস | সকাল ১১:৫৫ | দুপুর ১২:৪০ | রবিবার |
যাত্রীদের জন্য কিছু বাস্তব পরামর্শ নিচে দেওয়া হলো:
- যাত্রা শুরুর অন্তত ১০-১৫ মিনিট আগে প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে যাওয়া উচিত, বিশেষ করে সকালের ব্যস্ত সময়ে সুবর্ণা বা তূর্ণা এক্সপ্রেস ধরার ক্ষেত্রে
- তূর্ণা এক্সপ্রেসে কোনো সাপ্তাহিক বন্ধ নেই, তাই জরুরি প্রয়োজনে এটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিকল্প
- সোমবারে সুবর্ণা এক্সপ্রেস বন্ধ থাকায় সেদিন তূর্ণা বা উপবন এক্সপ্রেসের সময়সূচী মাথায় রাখা ভালো
- টিকিট কাউন্টারে ভিড় এড়াতে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিং সিস্টেম ব্যবহার করে আগেভাগে টিকিট কেটে রাখা সুবিধাজনক
জানুনঃ ঢাকা টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী
এয়ারপোর্ট টু কমলাপুর মেইল ও কমিউটার ট্রেনের সময়সূচী কী?
এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর রুটে আন্তঃনগর ছাড়াও বেশ কিছু মেইল, এক্সপ্রেস ও কমিউটার ট্রেন চলাচল করে যেগুলোর ভাড়া তুলনামূলক কম এবং যেকোনো সময় সহজলভ্য।
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক বন্ধ |
|---|---|---|---|
| ঢাকা মেইল (১) | ০৬:৪০ | ০৭:২০ | নেই |
| কর্ণফুলি এক্সপ্রেস (৩) | ১৯:০৭ | ১৯:৪০ | নেই |
| সুরমা মেইল (১০) | ০৮:২০ | ০৯:২০ | নেই |
| ঢাকা মেইল (১১) | ০৩:৪০ | ০৪:২৫ | নেই |
| তিস্তা কমিউটার (৩৩) | ০৮:০৪ | ০৮:৪৫ | নেই |
| তিস্তা কমিউটার (৩৫) | ১৪:৪৩ | ১৫:২০ | নেই |
| ঈসা খাঁ এক্সপ্রেস (৪০) | ২৩:১২ | ২৩:৫৫ | নেই |
| মহুয়া কমিউটার (৪৪) | ২০:৪০ | ২১:১০ | নেই |
| দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার (৪৮) | ১৮:৪৯ | ১৯:২৫ | নেই |
| বালাকা এক্সপ্রেস (৫০) | ১৭:০৭ | ১৭:৪০ | নেই |
| জামালপুর কমিউটার (৫২) | ১০:৪২ | ১১:১৫ | নেই |
| ভাওয়াল এক্সপ্রেস (৫৬) | ১১:২২ | ১২:০৫ | নেই |
| চট্টলা এক্সপ্রেস (৬৭) | ১৫:১২ | ১৫:০০ | মঙ্গলবার |
যেমন ধরুন, কেউ যদি রাতের দিকে ভ্রমণ করতে চান তাহলে ঈসা খাঁ এক্সপ্রেস (২৩:১২) বা ঢাকা মেইল (১১) একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। কারণ এই সময়ে সাধারণত যাত্রীর চাপ কম থাকে। আবার সকালের অফিস সময়ের জন্য তিস্তা কমিউটার (৩৩) বা সুরমা মেইল সুবিধাজনক। কারণ এগুলো তুলনামূলক নির্ধারিত সময় মেনে চলে।
এয়ারপোর্ট টু কমলাপুর ট্রেনের ভাড়া কত?
এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুরগামী ট্রেনগুলোতে মূলত তিন ধরনের আসন বিভাগ রয়েছেঃ শোভন, শোভন চেয়ার ও প্রথম আসন যেখানে ভাড়া শুরু হয় মাত্র ৪৫ টাকা থেকে।
| আসন বিভাগ | টিকিটের মূল্য |
|---|---|
| শোভন | ৪৫ টাকা |
| শোভন চেয়ার | ৫০ টাকা |
| প্রথম আসন | ১০৪ টাকা |
এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর রুটে সবচেয়ে কম খরচে যেতে চাইলে শোভন আসনই যথেষ্ট, ভাড়া মাত্র ৪৫ টাকা।
এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর যাওয়ার সময় কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত?
টিকিট কাটার আগে ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন যাচাই করে নেওয়া জরুরি, যেমন সুবর্ণা এক্সপ্রেস সোমবার এবং তিস্তা এক্সপ্রেস রবিবার বন্ধ থাকে। ভুল দিনে স্টেশনে গিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ার চেয়ে আগে থেকে সময়সূচী দেখে নেওয়া ভালো।
সবচেয়ে সঠিক ও হালনাগাদ তথ্যের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) থেকে সময়সূচী ও টিকিটের প্রাপ্যতা যাচাই করে নেওয়া উত্তম, কারণ মাঝে মাঝে সাময়িক সময়সূচী পরিবর্তন হতে পারে।
- অনলাইনে আগেভাগে টিকিট বুক করে রাখা ভালো, বিশেষ করে সকালের ব্যস্ত সময়ের ট্রেনগুলোর জন্য
- মালামাল বেশি থাকলে শোভন চেয়ারের বদলে প্রথম আসন বেছে নেওয়া আরামদায়ক হতে পারে
- এই রুটে আরও ট্রেন সম্পর্কিত তথ্যের জন্য (/* এখানে ইন্টারনাল লিংক */) দেখতে পারেন
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর যেতে কত সময় লাগে?
ট্রেনের ধরন অনুযায়ী সময় লাগে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট।
এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুরের দূরত্ব কত?
দূরত্ব প্রায় ১৭ কিলোমিটার।
সোমবার কি সুবর্ণা এক্সপ্রেস চলে?
না, সুবর্ণা এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সোমবার।
এই রুটে সবচেয়ে কম ভাড়ার আসন কোনটি?
শোভন আসন সবচেয়ে কম ভাড়ার, মাত্র ৪৫ টাকা।
তূর্ণা এক্সপ্রেসের কোনো সাপ্তাহিক বন্ধ আছে কি?
না, তূর্ণা এক্সপ্রেসের কোনো সাপ্তাহিক বন্ধ নেই।
এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর রুটে দিনে কতটি ট্রেন চলাচল করে?
দিনে অন্তত ২০-২৫টি আন্তঃনগর, মেইল ও কমিউটার ট্রেন এই রুটে চলাচল করে।
রাতের বেলা কোন ট্রেনে যাওয়া সুবিধাজনক?
রাতের দিকে ঈসা খাঁ এক্সপ্রেস (২৩:১২) বা ঢাকা মেইল (১১, রাত ০৩:৪০) ব্যবহার করা যায়।
শেষ কথা
এয়ারপোর্ট টু কমলাপুর রুটে ট্রেন ভ্রমণ দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য একটি মাধ্যম, যেখানে মাত্র ৩০-৪৫ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী আন্তঃনগর বা মেইল/কমিউটার ট্রেন বেছে নিয়ে যাত্রা পরিকল্পনা করলে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়। যাত্রার আগে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন যাচাই করে নেওয়াটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যাতে অযথা স্টেশনে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।
Is an Entrepreneur, Business Adviser. He loves to do research on the business and acquire knowledge on the business topic and this knowledge he used in his business. He also believes that sharing is caring that’s why he starts to write for those people who actually need help with the business, jobs, management, soft skills, and self-employed topic which is very important for them.
