বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ অনুযায়ী, ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে জামালপুরে পৌঁছায় সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে। অন্যদিকে জামালপুর থেকে ফিরতি যাত্রায় ট্রেনটি রাত ৮টা ১০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন ভোর ৫টায় চট্টগ্রাম পৌঁছায়। বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম জনপ্রিয় এই আন্তঃনগর ট্রেনটি জামালপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনি ও চট্টগ্রাম এই গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরগুলোকে একই লাইনে যুক্ত করেছে।

প্রথম দিকে ট্রেনটি শুধু ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত চলত। পরবর্তীতে রুট বর্ধিত করে জামালপুর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়, যার ফলে উত্তরবঙ্গের এই জেলার মানুষ সরাসরি বন্দরনগরী চট্টগ্রামে যাতায়াতের সুবিধা পান। পুরো যাত্রাপথে ট্রেনটি প্রায় ৪৪৫ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে, যা দেশের দীর্ঘতম রেলপথগুলোর একটি। তুলনার জন্য বলা যায়, বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রুট হলো ঢাকা থেকে পঞ্চগড়, যেখানে আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস চলাচল করে অর্থাৎ বিজয় এক্সপ্রেসও সেই তালিকার কাছাকাছি অবস্থানে থাকা একটি দীর্ঘ রুটের ট্রেন।

Table of Contents

চট্টগ্রাম থেকে জামালপুর পর্যন্ত বিজয় এক্সপ্রেসের সময়সূচি কী?

চট্টগ্রাম থেকে জামালপুরগামী বিজয় এক্সপ্রেসের সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেনটি সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছেড়ে যায় এবং পথে মোট ১২টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে জামালপুর জংশনে পৌঁছায়। এই যাত্রায় সময় লাগে প্রায় ৮ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট।

স্টেশনের নামসময়
চট্টগ্রাম০৯:১৫ AM
ভাটিয়ারী০৯:৩৫ AM
ফেনী১০:৪১ AM
লাকসাম১১:২০ AM
কুমিল্লা১১:৪৪ AM
আখাউড়া১২:৩৮ PM
ভৈরব বাজার০১:১৭ PM
চরাছর০১:৪৮ PM
কিশোরগঞ্জ০২:৩২ PM
আত্রাবাড়ি০৩:১০ PM
ময়মনসিংহ গৌরীপুর০৩:৫২ PM
ময়মনসিংহ জংশন০৪:৩০ PM
পিয়ারপুর০৫:১২ PM
জামালপুর জংশন০৬:১০ PM

আপনি যদি কখনো চট্টগ্রাম থেকে সকালের এই ট্রেনে উঠে থাকেন, তাহলে খেয়াল করবেন কুমিল্লা পার হওয়ার পরই যাত্রীদের ভিড় কিছুটা বাড়তে থাকে, কারণ আখাউড়া ও ভৈরব বাজার থেকে প্রচুর যাত্রী ওঠেন। তাই সিট নিশ্চিত করতে আগেভাগে টিকিট কাটাই ভালো। মনে রাখা জরুরি, শিডিউল বিপর্যয় বা কারিগরি ত্রুটির কারণে সময়সূচিতে সামান্য হেরফের হতেই পারে, তাই ভ্রমণের দিন সকালেই স্টেশনে বা অনলাইনে হালনাগাদ তথ্য যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও জেনে নিনঃ জয়দেবপুর টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া

জামালপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিজয় এক্সপ্রেসের সময়সূচি

জামালপুর থেকে চট্টগ্রামগামী বিজয় এক্সপ্রেস রাত ৮টা ১০ মিনিটে জামালপুর জংশন থেকে ছেড়ে যায় এবং একের পর এক স্টেশন অতিক্রম করে পরদিন ভোর ৫টায় চট্টগ্রাম জংশনে পৌঁছায়। এটি মূলত একটি রাত্রিকালীন যাত্রা, যা অনেক যাত্রীর জন্য সুবিধাজনক কারণ রাতে ঘুমিয়ে যাত্রা করে সকালেই গন্তব্যে পৌঁছানো যায়।

স্টেশনের নামসময়
জামালপুর জংশনরাত ০৮:১০
পিয়ারপুররাত ০৮:৪৫
ময়মনসিংহরাত ০৯:৪০
ময়মনসিংহ গৌরীপুররাত ১০:২৩
আত্রাবাড়িরাত ১০:৫৫
কিশোরগঞ্জরাত ১১:২৫
চরাছররাত ১২:০৫
ভৈরব বাজাররাত ১২:৪২
আখাউড়াভোর ০১:৩০
কুমিল্লাভোর ০২:৪২
লাকসামভোর ০২:৪০
ফেনীভোর ০৩:২২
ভাটিয়ারীভোর ০৪:৩২
চট্টগ্রাম জংশনসকাল ০৫:০০

ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন মঙ্গলবার। অর্থাৎ প্রতি মঙ্গলবার এই রুটে বিজয় এক্সপ্রেস চলাচল করে না, বাকি ছয় দিন নিয়মিত সার্ভিস চালু থাকে। যারা জামালপুর থেকে রাতের এই ট্রেনে যাতায়াত করেন তারা প্রায়ই বলেন, কিশোরগঞ্জ পার হওয়ার পর ধীরে ধীরে বগির ভেতর নিস্তব্ধতা নেমে আসে এবং বেশিরভাগ যাত্রী ঘুমিয়ে পড়েন, ফলে ভোরবেলা চট্টগ্রাম পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত যাত্রাটি বেশ আরামদায়ক মনে হয়।

বিজয় এক্সপ্রেসের টিকিটের ভাড়ার তালিকা ২০২৬

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রীদের সুবিধার জন্য একাধিক শ্রেণির আসন ব্যবস্থা রয়েছে শোভন চেয়ার থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ এসি ক্লাস পর্যন্ত। নিচের তালিকায় প্রতিটি শ্রেণির বর্তমান ভাড়া দেখানো হলো:

আসন শ্রেণিভাড়া (টাকা)
শোভন চেয়ার৫২৫
স্নিগ্ধা১০০৭
ফার্স্ট ক্লাস সিট১২০৮
এসি১৮০৬

উল্লেখ্য, অনলাইনে টিকিট কাটলে উপরের ভাড়ার সাথে অতিরিক্ত ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ যুক্ত হয়। বাজেট নিয়ে ভ্রমণ করতে চাইলে শোভন চেয়ার শ্রেণিই সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিকল্প, আর দীর্ঘ যাত্রায় আরাম চাইলে স্নিগ্ধা বা এসি শ্রেণি বেছে নেওয়াই ভালো, কারণ প্রায় ৯ ঘণ্টার এই যাত্রায় বসার আসনের আরাম বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

কীভাবে মোবাইলে বিজয় এক্সপ্রেসের লাইভ অবস্থান ট্র্যাক করবেন?

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এসএমএস পাঠিয়ে বিজয় এক্সপ্রেসসহ যেকোনো ট্রেনের লাইভ অবস্থান জানা যায়। এজন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে TR তারপর একটি স্পেস দিয়ে ট্রেনের নম্বর বা কোড, এরপর এই বার্তাটি পাঠাতে হবে 16318 নম্বরে।

বার্তা পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি ফিরতি এসএমএসে ট্রেনটি ঠিক কোন স্টেশনের কাছাকাছি বা কতটা বিলম্বে চলছে, তার তথ্য পাওয়া যায়। ধরুন, আপনি জামালপুর স্টেশনে অপেক্ষা করছেন এবং জানতে চান ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে কতদূর এসেছে এই মুহূর্তে এসএমএস পাঠিয়ে সহজেই নিশ্চিত হতে পারবেন ট্রেনটি দেরিতে আসছে কিনা। প্রতিটি এসএমএসের জন্য ৫.৫৬ টাকা চার্জ কাটা হয়, যা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী এবং স্টেশনে অহেতুক অপেক্ষার সময় কমাতে সাহায্য করে।

বিজয় এক্সপ্রেস সম্পর্কিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বিজয় এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন মঙ্গলবার, অর্থাৎ এই দিন ছাড়া বাকি ছয় দিন ট্রেনটি নিয়মিত চলাচল করে। পুরো রুটের দূরত্ব প্রায় ৪৪৫ কিলোমিটার এবং সম্পূর্ণ যাত্রায় সময় লাগে প্রায় ৮ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট।

যারা প্রথমবার এই রুটে ভ্রমণ করছেন, তাদের জন্য কয়েকটি ব্যবহারিক পরামর্শ কাজে লাগতে পারে। প্রথমত, বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কাটাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি, কারণ অনেক সময় অনলাইনে দালালচক্র বা ভুয়া ওয়েবসাইট থেকে বাড়তি দামে টিকিট বিক্রির ঘটনা ঘটে থাকে। দ্বিতীয়ত, রাত্রিকালীন যাত্রার ক্ষেত্রে হালকা কম্বল বা চাদর সাথে রাখা ভালো, কারণ এসি ও নন-এসি উভয় কোচেই রাতের দিকে ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে। তৃতীয়ত, দীর্ঘ যাত্রায় খাবার ও পানি সাথে রাখা উচিত, যদিও ট্রেনে খাবার বিক্রেতা থাকেন, তবে নিজস্ব ব্যবস্থা রাখলে ভ্রমণ আরও নিরাপদ হয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী কী?

চট্টগ্রাম থেকে সকাল ৯:১৫ মিনিটে ছেড়ে জামালপুরে সন্ধ্যা ৬:১০ মিনিটে পৌঁছায়, আর জামালপুর থেকে রাত ৮:১০ মিনিটে ছেড়ে ভোর ৫টায় চট্টগ্রাম পৌঁছায়।

বিজয় এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কোনটি?

প্রতি মঙ্গলবার এই ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে।

বিজয় এক্সপ্রেসের সর্বনিম্ন ভাড়া কত?

সবচেয়ে সাশ্রয়ী শোভন চেয়ার শ্রেণির ভাড়া ৫২৫ টাকা।

বিজয় এক্সপ্রেসে কি এসি সিট পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, এসি শ্রেণির ভাড়া ১৮০৬ টাকা।

অনলাইনে টিকিট কাটলে কি বাড়তি চার্জ লাগে?

হ্যাঁ, অনলাইনে টিকিট কাটলে ২০ টাকা অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ যোগ হয়।

বিজয় এক্সপ্রেসের মোট দূরত্ব কত?

চট্টগ্রাম থেকে জামালপুর পর্যন্ত পুরো রুটের দূরত্ব প্রায় ৪৪৫ কিলোমিটার।

বিজয় এক্সপ্রেস কোন কোন জেলার মধ্য দিয়ে যায়?

এটি জামালপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনি ও চট্টগ্রাম জেলাকে সংযুক্ত করেছে।

ট্রেনের লাইভ অবস্থান কীভাবে জানা যায়?

মোবাইলে TR লিখে ট্রেন নম্বর যোগ করে ১৬৩১৮ নম্বরে এসএমএস পাঠালে ফিরতি বার্তায় লাইভ অবস্থান জানা যায়।

Sharing is caring!

Similar Posts