ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬: ভাড়া ও টিকিটের তালিকা
ভৈরব থেকে ঢাকা রুটে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কপথের যানজট এড়াতে ট্রেনই এই রুটের সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক মাধ্যম। আপনি কি ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী, টিকিটের দাম এবং স্টপেজ সম্পর্কে সঠিক তথ্য খুঁজছেন?
আজকের এই ব্লগে আমরা ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী ভৈরব-ঢাকা রুটের সকল আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনের সময়সূচী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
Table of Contents
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের তালিকা (Intercity & Mail)
ভৈরব বাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন বেশ কিছু হাই-স্পিড আন্তঃনগর এবং লোকাল ট্রেন ছেড়ে যায়। নিচে আপনার সুবিধার্থে ট্রেনের ধরন অনুযায়ী বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
১. আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচী (Intercity Train Schedule)
আন্তঃনগর ট্রেনগুলো দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছায় এবং এতে সুযোগ-সুবিধা বেশি থাকে।
| ট্রেনের নাম | ভৈরব থেকে ছাড়ে | ঢাকা পৌঁছায় | ছুটির দিন |
| তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১) | রাত ০৩:৩৩ | ভোর ০৫:১৫ | নেই |
| উপবন এক্সপ্রেস (৭৪০) | ভোর ০৪:০৬ | সকাল ০৫:৪৫ | নেই |
| এগারো সিন্ধুর প্রভাতী (৭৩৮) | সকাল ০৮:২০ | সকাল ১০:৩০ | নেই |
| চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০১) | সকাল ১০:২১ | দুপুর ১২:১০ | শুক্রবার |
| কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৪) | সকাল ১১:১০ | দুপুর ০১:০০ | শুক্রবার |
| এগারো সিন্ধুর গোধূলী (৭৫০) | দুপুর ০২:৫৫ | বিকাল ০৪:৪৫ | বুধবার |
| মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১) | বিকাল ০৪:৫৭ | সন্ধ্যা ০৬:৪০ | রবিবার |
| কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮২) | বিকাল ০৫:৪৮ | রাত ০৭:৫৫ | শুক্রবার |
| মহানগর গোধূলী (৭০৩) | সন্ধ্যা ০৭:০৭ | রাত ০৮:৫৫ | নেই |
| পারাবত এক্সপ্রেস (৭১০) | রাত ০৮:৩০ | রাত ১০:১৫ | মঙ্গলবার |
২. মেইল ও কমিউটার ট্রেনের সময়সূচী (Mail/Commuter)
কম খরচে যাতায়াতের জন্য মেইল ট্রেনগুলো সেরা। তবে এগুলোতে ভিড় কিছুটা বেশি হতে পারে।
- ঢাকা এক্সপ্রেস (১১): ভৈরব থেকে ছাড়ার সময় রাত ০২:১৭।
- সুরমা মেইল (১০): ভৈরব থেকে ছাড়ার সময় ভোর ০৫:০৭।
- তিতাস কমিউটার (৩৩): ভৈরব থেকে ছাড়ার সময় সকাল ০৫:৫৭।
- তিতাস কমিউটার (৩৫): ভৈরব থেকে ছাড়ার সময় দুপুর ১২:৫৯।
- কর্ণফুলী এক্সপ্রেস (০৩): ভৈরব থেকে ছাড়ার সময় বিকাল ০৪:৩০।
- ইশা খান এক্সপ্রেস (৪০): ভৈরব থেকে ছাড়ার সময় বিকাল ০৫:৪০।
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের ভাড়ার তালিকা (Ticket Price)
বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক নির্ধারিত ভৈরব থেকে ঢাকা রুটের টিকিটের দাম নিচে দেওয়া হলো। আসনভেদে ভাড়ার পরিবর্তন হয়ে থাকে।
| আসনের বিভাগ | ভাড়ার হার (টাকা) |
| শোভন (Shovon) | ৮৫ টাকা |
| শোভন চেয়ার (S_Chair) | ১০৫ টাকা |
| ফার্স্ট ক্লাস (1st Class) | ১৪০ টাকা |
| স্নিগ্ধা / এসি চেয়ার (Snigdha) | ১৯৮ টাকা |
| এসি সিট (AC Seat) | ২৩৬ টাকা |
| এসি বার্থ (AC Berth) | ৩৫১ টাকা |
(দ্রষ্টব্য: ভাড়ার সাথে ১৫% ভ্যাট যুক্ত হতে পারে যদি আপনি অনলাইন থেকে কেনেন।)
অনলাইনে টিকিট কাটার নিয়ম (Online Booking)
বর্তমানে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার ঝামেলা নেই। আপনি ঘরে বসেই Rail Sheba অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কাটতে পারেন।
- প্রথমে eticket.railway.gov.bd সাইটে যান।
- আপনার মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
- ‘From’ স্টেশনে Bhairab Bazar এবং ‘To’ স্টেশনে Dhaka সিলেক্ট করুন।
- যাত্রার তারিখ ও পছন্দের ক্লাস নির্বাচন করুন।
- বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করে টিকিট ডাউনলোড করুন।
ভৈরব টু ঢাকা ভ্রমণে কিছু প্রয়োজনীয় টিপস
ভৈরব থেকে ঢাকা যাতায়াত আনন্দদায়ক করতে নিচের টিপসগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
- অগ্রিম টিকিট: ঈদ বা ছুটির মৌসুমে অন্তত ৫-১০ দিন আগে টিকিট কেটে রাখুন।
- সময় জ্ঞান: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
- খাবার: আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে ডাইনিং কার থাকলেও সাথে হালকা শুকনো খাবার ও পানি রাখা ভালো।
- নিরাপত্তা: যাত্রাপথে অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার গ্রহণ করবেন না।
কেন ট্রেনের ভ্রমণ বাসের চেয়ে ভালো?
ঢাকা-সিলেট বা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর বা মেঘনা ব্রিজে প্রায়ই দীর্ঘ যানজট থাকে। যেখানে বাসে ৩-৪ ঘণ্টা লাগতে পারে, সেখানে ট্রেনে মাত্র ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টায় জ্যামমুক্তভাবে পৌঁছানো সম্ভব। এছাড়া ট্রেনের পরিবেশ অনেক বেশি রিফ্রেশিং।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. ভৈরব থেকে ঢাকা যেতে কত সময় লাগে?
উত্তর: আন্তঃনগর ট্রেনে সাধারণত ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে মেইল ট্রেনে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাগতে পারে।
২. ভৈরব বাজার স্টেশনে কি সব ট্রেন থামে?
উত্তর: হ্যাঁ, ভৈরব একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন হওয়ায় ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের প্রায় সব আন্তঃনগর ট্রেন এখানে যাত্রা বিরতি দেয়।
৩. তিতাস কমিউটার কি প্রতিদিন চলে?
উত্তর: হ্যাঁ, তিতাস কমিউটার প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে চলাচল করে। এটি অফিসযাত্রীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়।
৪. টিকিটের দাম কি বাড়ানো হয়েছে?
উত্তর: ২০২৪-২৫ সালের বাজেট পরবর্তী সামান্য সমন্বয় হলেও আমাদের টেবিলে দেওয়া দামগুলো বর্তমানের জন্য সঠিক।
উপসংহার
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের যাত্রা যেমন সাশ্রয়ী, তেমনি আরামদায়ক। আশা করি, এই আর্টিকেলটি আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে সাহায্য করেছে। সঠিক সময়ে স্টেশনে পৌঁছে সুন্দর একটি ভ্রমণ উপভোগ করুন।
Is an Entrepreneur, Business Adviser. He loves to do research on the business and acquire knowledge on the business topic and this knowledge he used in his business. He also believes that sharing is caring that’s why he starts to write for those people who actually need help with the business, jobs, management, soft skills, and self-employed topic which is very important for them.
